২.২. ভবিষ্যৎ দেখার ধারণা + ডাটার গল্প বলার ক্ষমতা

ভবিষ্যত দেখার ধারণা

The two most important days in your life are the day you are born and the day you find out why.

-– Mark Twain

কোর্স ম্যাটেরিয়াল তৈরি করতে নতুন করে পড়তে হচ্ছে অনেক কিছু। বই লেখার মতো করে। এখন পড়ছিলাম মেশিন লার্নিংয়ের ‘এক্সপ্লোরাটোরি ডাটা এনালাইসিস’ আর পরিসংখ্যানের ভেতরের কিছু জিনিস। অনেকটাই ভুলে গেছি ইন্টারমিডিয়েটের দুবছরের ওই পরিসংখ্যান। কিছু প্রিমিয়াম কোর্স নিয়েছিলাম এর মধ্যে। একটা দুটো অ্যালগরিদম নিয়ে পড়তে গিয়ে মনে এলো একটা কথা।

আমরা ভাবতে চাই - ভবিষ্যত দেখতে পারে না মানুষ। সত্যি তো, নাকি? এখন পর্যন্ত? সৃষ্টিকর্তা মানুষ বানানোর সময় বলেছিলেন - ‘প্রতিনিধি’ বানাতে চান আমাদের। আর এই মানুষই পাবে ইচ্ছেমতো কাজ করার স্বাধীনতা। স্বর্গদূতেরা মানুষের এই ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে সৃষ্টিকর্তাকে অনুযোগ করলে উনি বললেন ‘আমি যা জানি তোমরা তা জানো না’। এই কথাটার অর্থ এখনো বুঝতে পারেনি মানুষ। পুরোপুরি। লিটারেলি মানে করলে দাড়ায় সৃষ্টিকর্তা জানেন আমাদের ভবিষ্যত।

এখন আসি প্রতিনিধি’র ব্যাপারটা। ধরুন, সরকারী একটা অফিস অথবা একটা কোম্পানি চালাচ্ছেন আপনি। একটা চিঠি এলো আপনার নামে। সরকারের একটা উপরস্থ অফিস থেকে। বলা হলো আপনাকে উপস্থিত থাকতে। একটা মিটিংয়ে। আরেকটা দরকারী কাজে আটকে গেলেন আপনি। ওই সময়ে। কি করবেন আপনি?

প্রতিনিধি পাঠাবেন আপনার জায়গায়। প্রতিনিধি কে হতে পারে আপনার? চেষ্টা করবেন আপনার ‘ট্রু কপি’কে পাঠাতে। যিনি জানেন আপনার সবকিছু। আপনার সব মুভ। ‘ট্রু কপি’ই কিন্তু আপনার ডেপুটি। ডেপুটি মানে আপনার প্রতিনিধি।

ধরুন, পেলেন না আপনার যোগ্য উত্তরসূরী। কি করবেন আপনি? খুঁজে বের করবেন এমন কাউকে যিনি জানেন আপনার প্রায় সব স্ট্রাটেজি। কম জানেন তবে জানেন আপনাকে প্রতিনিধিত্ব করার মতো জিনিস। ধরে নিচ্ছি উনি জানেন কম কম - তবে ‘কানেক্ট’ করতে পারবেন আপনার সব ধারণাকে। ওই মিটিংয়ে। আপনার ধারণা ‘ফ্লোট’ করতে পারবেন অনেকটাই আপনার মতো করে।

সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীতে পাঠালেন মানুষকে। প্রতিনিধি করে। জুড়ে দিলেন তার সব গুনগুলোর কিছু কিছু করে। মানুষ একাধারে সৃষ্টিকর্তার জ্ঞানে জ্ঞানী, দয়ালু, সাহায্যকারী, রিসোর্সফুল, নিজে থেকে তৈরী করতে পারে জিনিস - আরো অনেক অনেক কিছু! সৃষ্টিকর্তার নামগুলোও যোগ করে নিলো নিজের নামে। এই মানুষ।

এখন প্রশ্ন: যদি সৃষ্টিকর্তা জানেন ভবিষ্যত, মানুষকে দেননি কেন ওই জ্ঞান? আমার ধারণা, ওই জ্ঞানটাও পেয়েছে মানুষ। শুরু থেকেই। তবে ঠাহর করতে পারেনি পারিপার্শ্বিক জ্ঞান না থাকার কারণে। এখন মানুষ অনেক জ্ঞানী, ধন্যবাদ সৃষ্টিকর্তাকে।

মানুষ যুদ্ধ করছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে। যুদ্ধ করছে ‘অনিরাময়যোগ্য’ রোগের সাথে। ছুটছে গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে। সৃষ্টিকর্তা চাইছেন আমরা ‘এক্সপ্লোর’ করি আরো, জানি আরো বেশি। এর জন্য প্রয়োজন ছিল চিন্তার স্বাধীনতা, ‘ফ্রি উইল’, যা দিয়েছেন আমাদের।

আমার বিশ্বাস, মানুষ দেখতে পারবে ভবিষ্যত। ‘ভিভিডলি’। সৃষ্টিকর্তার অসংখ্য গুনের ছিটেফোঁটা নিয়ে। কথা বলতে শুরু করেছে আমাদের আশেপাশের ডাটা। শুরুতে, ‘স্নিকপিক’ গোছের। পরে অনেকটাই আসল - বড় একটা উইন্ডো ধরে। ধারণা বলে, পৃথিবীর প্রতিটা জিনিসের একটা 'রিদম' আছে। এই রিদম' মানে প্যাটার্নগুলো বুঝতে পারলে সবকিছুই সোজা। অন্তত: গত কয়েক দশকের প্রযুক্তির পড়াশোনা তাই বলে।

ডাটার গল্প বলার ক্ষমতা

ডাটা সাইন্সের বড় গল্প হচ্ছে এর ‘স্টোরিটেলিং’ এর অসাধারণ ক্ষমতা। ‘ভিজ্যুয়ালাইজেশন’ দিয়ে মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধ করাতে বিকল্প নেই এই জিনিসের। আসলেই নেই। আমরা মানুষ। যন্ত্র নই। যন্ত্র ডাটা বোঝে। আর মানুষ ভালো বোঝে ছবি। কে যেন বলেছিলেন - আ পিকচার ওয়ার্থ থাউজেন্ড ওয়ার্ডস। সত্যি! ধরুন, প্রধানমন্ত্রীকে দেখাতে হবে একটা জিনিস। কম সময়ে। মানে দু মিনিটে। কোন নীতিমালাগুলো আটকে দিচ্ছে আমাদের জিডিপির উর্ধগতিকে? অথবা কোন নীতিমালাগুলো এগিয়ে দিচ্ছে আমাদের? কি করতে হবে আমাদের? এ মুহুর্তে?

নিরস ডাটা না দেখিয়ে সেটার প্লট পয়েন্টগুলো দিয়ে প্যাটার্ন দেখানো অনেক অনেক কাজের। বিশেষ করে ওপরের দিকের নীতিমালা নির্ধারণী মানুষদের কাছে। ‘অ্যা পিকচার ওর্থ থাউজেন্ড ওয়ার্ডস’। কেউ শুনতে চান না আদ্যিকালের লম্বা গদ্য। বরং ‘ডাটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন’ সাহায্য করছে সিদ্ধান্ত নিতে। অল্প সময়ে। আর এখানে ‘আর’ এক কথায় অসাধারণ। হ্যান্ডস ডাউন!