মুখবন্ধ

*

একটা সময় ছিল যখন সন্দেহবাদী ছিলাম -- বাংলায় কেন বই লিখতে হবে যেখানে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে যোগাযোগের ভাষা ইংরেজী। এখন ব্যাপারটিকে অন্য ভাবে দেখি। বাংলা বই বাংলাভাষীদের স্বাভাবিকভাবে আকৃষ্ট করে--এটি গুরুত্বপূর্ণ যখন টেক্স্টবই বা টেকস্টবইয়ের বাইরের কোন বই পড়ে জ্ঞান অর্জনের প্রসঙ্গ আসে। কনসেপ্ট গড়ার জন্য মাতৃভাষার কোন বিকল্প নেই।

রকিব ভাইয়ের সাথে দীর্ঘদিনের পরিচয় এবং অনলাইনে ফলো করার সূত্রে যখন জানতে পারি উনি বই লিখছেন, তখন আগ্রহ নিয়ে দেখছিলাম ওনার অল্প অল্প কিন্তু নিশ্চিতভাবে বইটি শেষ করার অগ্রগতি। বইটির কনটেন্ট নিয়ে তাঁর তৈরী করা বেশ কয়েকটি ভিডিও আমি দেখেছি। তাঁর লেখনীর এবং প্রেজেন্টেশনের দুটি দিক আমাকে আকৃষ্ট করেছে-- একটি হলো ছোট ছোট বাক্যে ভাব প্রকাশ করা, আর অন্যটি হলো এক ধরনের উহ্য আকর্ষণে বন্দী করা যা পাঠককে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে, চিন্তার পরিসর তৈরী করে।

ডেটা নিয়ে কাজ করতে গেলে কোন একটি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে দক্ষ হতে হয়। বইটিতে পরিসংখ্যান ও ডেটা ভিজুয়ালাইজেশনের সফটওয়্যার 'আর' ব্যবহার করা হয়েছে। একটি প্রচলিত মিথ হলো 'আর' শেখা কঠিন। আসলে যেকোন ভাষা শেখাই সময় সাপেক্ষ। এক্সপ্লোরেটরি এনালিসিস ও ভিজুয়ালাইজেশন হল যেকোন ডেটা এনালাইজ করার প্রথম ধাপ। সেদিক থেকে 'আর' নিজেই নিজের তুলনা। তবে ডেটা সায়েন্স বা এমার্জিং ফিল্ডে টিকে থাকতে হলে ল্যাঙ্গুয়েজগুলোকে টুল হিসেবে দেখতে হবে। যখন যেটি দিয়ে এফিশিয়েন্ট ভাবে কাজ সমাধা করা যায় তখন সেই টুল ব্যবহার করা শিখতে হবে।

বইটি লেখা শুরুর আগে থেকেই বিভিন্ন সময়ে রকিব ভাইয়ের সাথে টেলিফোনে কথা বলেছি। অনুভব করেছি এমারজিং টেকনলজি ও এর ব্যবহার কীভাবে আমাদের দেশকে পাল্টে দিতে পারে নিয়ে ওনার ভাবনা। এই পরিবর্তন তো রাতারাতি হবে না, আবার এর জন্য ধীরে পদক্ষেপ নিলে অন্যদের সাথে আমাদের ব্যবধান কখনোই কমানো সম্ভব হবে না। এজন্য প্রথম পদক্ষেপটি দ্রুত নিতে হবে। তারপর তদোধিক দ্রুত দ্বিতীয় এবং তৃতীয় এবং তারপর জোরে দৌড় দিতে হবে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে। সেদিক থেকে মেশিন লারনিং এর থিওরি ছাড়া হাতে কলমে সহজ পাঠ একেবারে আনকোরা একজনকেও এর গভীরে নিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করবে এ নিয়ে আমি আশাবাদী।

ড. এনায়েতুর রহীম

ডেটা সায়েন্টিস্ট

ক্যারোলাইনাস হেলথকেয়ার সিস্টেম, যুক্তরাষ্ট্র